মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের বাড়ৈগাও বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে সাত্তার মিয়ার বাড়ির পার্শ্বে বাড়ৈগাঁও মৌজায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে কৃষি জমি কেটে বালু উত্তোলন করে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সজীব এবং মিন্টুর বিরুদ্ধে। এতে আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বিল এলাকায় কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলার আটপাড়া ইউনিয়নের বাড়ৈগাঁও মৌজা এবং হাঁসারগাও মৌজায় কৃষি জমি কেটে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিন্টু, সজীব দেওয়ান, শেখ শাওন, জসিম দেওয়ান, আলমগীর এবং খলিল ব্যক্তিদের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে ।
এ ছাড়া বাড়ৈগাও বাজারের সামনেই বাড়ৈগাঁও মৌজার কৃষি জমি উপর ড্রেজার বসিয়ে, সাত্তার মিয়ার বাড়ির পাশে কৃষি জমি ভরাট করছে মিন্টুগং। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের পাশসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এরপরও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাট ও বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বেজগাওয়ে মিন্টু, সজিব দেওয়ান, জসিম দেওয়ান, আলমগীর ও খলিলগং ব্যক্তিরা উপজেলার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমি ভরাট করছেন। এ ছাড়া মিন্টুসহ কয়েকজনের ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে ‘ম্যানেজ’ করার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, যেসব জমিতে একসময় ধান, পাট ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হতো, সেসব আবাদি জমিতে এখন বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।
এতে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিন্টু মুঠোফোনে বলেন, ‘সামনে আসেন, কথা বলি। ’ তবে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
শ্রীনগর উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি)’র নিকট জানতে চায়ে তাদের মুঠোফোন ফোন করল তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ বিষয়ে আটপাড়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেন না।