চীনের শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, বন্দর, টেলিযোগাযোগ ও শিল্প সক্ষমতাও দেশটির কৌশলগত শক্তির অংশ। ফলে গোয়েন্দা ব্যর্থতার সমস্যা অনেক সময় তথ্যের অভাবে নয়; বরং বিচ্ছিন্ন তথ্যকে একত্র করে বৃহত্তর চিত্রটি বুঝতে না পারায়।
৯/১১-এর পর নতুন হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ব্যাপকভাবে সন্দেহভাজনদের আটক করে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠানো হয়। বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন আটক, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমালোচনা করে।
ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন হেফাজতে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনাও পরে প্রকাশ্যে আসে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধেও লিবীয় ইসলামপন্থী আবদেলহাকিম বেলহাজ ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে লিবিয়ায় পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সরকার এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়।
গত ২৫ বছরে গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মুখমণ্ডল ও আইরিস শনাক্তকরণ এবং চলাফেরার ধরন বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তি নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
তবে একই প্রযুক্তি গোয়েন্দা এজেন্টদের পরিচয় গোপন রাখা ও সীমান্ত অতিক্রম করাও কঠিন করে তুলেছে। অর্থাৎ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যেমন নিরাপত্তা জোরদার করছে, তেমনি তৈরি করছে নতুন ধরনের ঝুঁকি।
৯/১১-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত হলো—গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়। সেই তথ্য সঠিকভাবে একত্র করা, তার অর্থ বুঝতে পারা এবং সময়মতো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহার, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মতো ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, গোয়েন্দা ব্যর্থতা শুধু তথ্যের ঘাটতি থেকে তৈরি হয় না। রাজনৈতিক চাপ, ভুল মূল্যায়ন, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং কৌশলগত আত্মতুষ্টিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই ৯/১১-এর ২৫ বছর পরও সেই ঘটনার শিক্ষা শেষ হয়ে যায়নি। বরং বিশ্বে হুমকির ধরন বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো শিক্ষা নতুন বাস্তবতায় বারবার পর্যালোচনা করার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
মন্তব্য করুন