জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে একটি দল দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দেশে বড় সমস্যা জ্বালানির সমস্যা। সমস্যা সমাধানে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হতে কিছু সময় লাগবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় সে ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এর মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারই হোক অথবা অন্তর্বর্তী সরকারেরই সৃষ্ট সমস্যা হোক সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ যদি অরাজকতা করতে চায় তাহলে দেশের আইনে বলা আছে তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
জ্বালানি সংকটে ভুক্তভোগী সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার প্রধান বলেন, স্বৈরাচারের আমলে একটি দল তাদের মধ্যে গুপ্ত অবস্থায় ছিল। তারাই এখন বাইরে এসে পরিচয় দিচ্ছে। এমনও হতে পারে, গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যারা গুপ্ত তারাই স্বৈরাচারকে সামনে আনার কাজ করছে। একজন আরেকজনকে গুপ্ত রাখার চেষ্টা করছে। কে কাকে গুপ্ত রাখতে চাইছে তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি রাজপথে ছিল, তবে গুপ্ত অবস্থায় কিছু করেনি। বুক চিতিয়ে মানুষের দাবি নিয়ে সোচ্চার ছিল। চব্বিশের আন্দোলনের ক্রেডিট ও মাস্টারমাইন্ড দেশের জনগণ। দেশের মানুষকে নিয়ে আন্দোলন সফল করেছিল বিএনপি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আর কখনও কেউ পাল্টাতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহিদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিলো। দেশে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে।’
আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মন্তব্য করুন