এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় দেশে গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি)। এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার আগের সরবরাহের কাছাকাছি ফিরেছে গ্যাসের পরিমাণ।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর আমদানি করা এলএনজি বা আরএলএনজি থেকে এসেছে ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগে সোমবার রাত থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়। সোমবার রাত ১০টায় মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আরএলএনজি ছিল ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।
একই দিন রাত ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। তখন আরএলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট।
সম্প্রতি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যায়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দেয়। বর্তমান সরবরাহের পরিমাণ সেই দুর্ঘটনার আগের অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় এক্সিলারেট পরিচালিত এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর কয়েক সপ্তাহ টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়।
পরে আগস্টে এফএসআরইউটি ধীরে ধীরে আবার কার্যক্রম শুরু করে। তবে ১৯ আগস্ট এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় টার্মিনালটির সরবরাহ আবারও বাধাগ্রস্ত হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুটে।
এরপর ২২ আগস্ট টার্মিনালটি থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সেই সরবরাহ বাড়তে থাকায় এখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সামগ্রিক পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।
মন্তব্য করুন