কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফরিদা ইয়াসমিন। দল অনুমতি দিলে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভের পর নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে স্টার নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ফরিদা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, উনি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য এবং আমিও একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। প্রত্যেকেরই মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। একজন নারীকে সম্মানিত করে কথা বলা আমাদের রাজনৈতিক কালচার, ভদ্রতা ও আচরণের অংশ। এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।
তিনি অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য তাকে এবং তার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা অত্যন্ত অপ্রীতিকর ও অসম্মানজনক। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কাজ করা উচিত। তিনি একজন বয়স্ক নারী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেনেশুনে কেন তাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনার বিচার দলের ওপর ছেড়ে দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তাকে ও দলের নেতৃত্বকে অপমান করার ঘটনায় উপযুক্ত বিচার চান। দল অনুমতি দিলে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মানহানির মামলা করবেন।
এদিকে ফরিদা ইয়াসমিনকে নিয়ে কথিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।
দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন ও পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে ঝাড়ু মিছিল বের করেন তারা। পরে বিক্ষোভ সমাবেশে আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার একটি ওয়াজ মাহফিলে মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত হয়।
ওই অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের সাংবিধানিক গুরুত্ব এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিত না হওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন আমির হামজা। ফরিদা ইয়াসমিনকে উদ্দেশ করে তিনি নিজের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের এমপিদের ভোটের পার্থক্যও তুলে ধরেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে।
একই বক্তব্যে কুষ্টিয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির হামজা। সার ডিলার নিয়োগে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পাশ কাটিয়ে কোনো বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেয়ার চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন তিনি।
এ বিষয়ে আমির হামজার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মন্তব্য করুন