মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে সভাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে তিনি বক্তব্য দিতে চাইলে তাঁকে হলরুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এমপির ক্যামেরাপারসন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিকেল ৫টার দিকে সভাটি শুরু হয়। একে একে বক্তব্য রাখেন শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল দাস।
পরে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করা হলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীর বক্তব্য দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় বিএনপির নেতারা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্যরা তাঁকে হলরুমে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেন।
এ সময় নুরুজ্জামান মীর মাইক হাতে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে—এই অংশের প্রতিবাদ জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। পরে পুলিশ তাঁকে রুম থেকে বের করে কিছু দূর নিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়।
লাঞ্ছিত করার ভিডিও ধারণ করার সময় এমপির ক্যামেরাপারসন নাহিদ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় আহত নুরুজ্জামান মীর জানান, প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর শরীরে হাত দিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ভুল-বোঝাবুঝির কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান বলেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন